ভুতের গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভুতের গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

নিশিডাক!

রুমী !
কেযেন ফিসফিস করে ডাকলো কানের কাছে মুখ এনে ।কি গভীর প্রেমের ডাক !! আলতো করে ঘাড়ে একটা চুমু এঁকে দিল । চমকে ঘুম ভাঙ্গলো রুমীর । শোয়ার আগে ঘরের সব বাতি বন্ধ করেই শুয়েছিল । তখন ঘর ছিল অন্ধকার । কিন্তু এখন ঘরটা যেন ভেসে যাচ্ছে আলোর বন্যায় !! মস্ত এক চাঁদ রুপালী আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে মিটিমিটি হাসছে যেন ওর দিকেই চেয়ে ।অভিভূত রুমী জানালার দিকে এগিয়ে গেল ধীরে ধীরে ।

কিন্তু ডাকটা !! কে ডাকলো ওকে অমন করে ? ঘাড়ের পাশে আঁকা আদরের স্পর্শটা যেন এখনো অনুভব করা যাচ্ছে ।

রুমী । ওই আবার !! চমকে এদিক ওদিক তাকালো ।নাহ্ কেউ তো নেই ঘরে !! জানালার ফাঁক দিয়ে তাকালো নিচের দিকে ।ওই তো , ওখানে কাকে দেখা যায় ? হঠাৎ ঘুরে চাইলো ।ওর চোখে চোখ পড়তেই মুচকি একটু হাসলো ।হাতের ইশারায় কাছে ডাকলো ।

ঘোর ঘোর , কি এক আশ্চর্য ঘোরে পেয়েছে রুমিকে !! পরনে যে শুধু পাতলা রাতের পোষাক সেই হুঁশও নেই ওর । দরজাটা খুলে বের হয়ে এল ।ওইতো সে, ডাকছে ওকে !! পিছু পিছু হেঁটে যাচ্ছে রুমী , কোথায় সে জানে না । জানতে চায়ও না ।শুধু যেতে হবে এটুকুই জানে ।

হাঁটছে তো হাঁটছেই । জলা জঙ্গল পাথর কিছুই মানছে না ।কাঁটা গাছে লেগে ছিড়ে যাচ্ছে পরনের পোষাক । পাথরে চোট খেয়ে রক্ত ঝরছে পা থেকে ।তবু হুঁশ নেই ।যেতেই হবে ওকে ।

ওই তো আবার ঘুরে তাকালো ওর দিকে , হাসলো মায়াভরা হাসি !! শুধু ওই হাসি আর মাত্র একবার দেখার জন্য বুঝিবা অনন্তকাল হাঁটা যায় !!

হঠাৎই থামলো , হাতের ইশারায় কাছে ডাকলো। সেই ডাকে সাড়া দেবে না সাধ্য কি রুমির !!পাশে যেয়ে দাঁড়াতেই হাত ইশারায় দেখাল -” দেখো কি সুন্দর ” ।রুমী দেখলোএক অতলান্ত খাদের কিনারায় দাড়িয়ে ওরা । মাথার ওপর চাঁদের আলোর বন্যা কিন্তু তার স্পর্শ পায়নি খাদের বেশিরভাগ অংশ । তলায় শুধু নিরেট আঁধার !!

দুহাতে জড়িয়ে ধরলো সে ।কানের কাছে মুখ রেখে বল্ল -“ওখানে , ওই অন্ধকারে লুকিয়ে আছে সুখ । যেতে চাও ওখানে ? আমার সাথে ? “বিবশ রুমী শুধু মাথাই নাড়তে পারলো – চায় ।নিজের দিকে ঘুড়ালো রুমীকে । ঠোঁটে চুমু খেল গভীরভাবে ।”চলো ” বলে ওর হাত ধরে টান দিলো।

তারপর কি সুন্দর পাখির মত ভেসে ভেসে নেমে চল্ল ওরা দুজনে !! কোথায় কতদুরে জানা নেই ।কি সুখ !! কি সুখ !!

পরেরদিন অনেক খোঁজাখুঁজির পর রুমীর মরদেহ পাওয়া গেল খাদের তলায় । অত উপর থেকে পরে মাথার পেছনটা থেঁতলে গেছে একেবারে ।শরীরের হাড়গোড়ও সব ভাঙ্গা । কিন্তু কি আশ্চর্য , ওর মুখে গভীর তৃপ্তির হাসি !!

আমি এবং মামা

ঘটনাটি ৩-৪ বছর আগে আমার মামার সাথে ঘটছিলো।ঘটনাটি মামার ভাষাতেই

দিলাম।তখন রাত ১টা বাজে।দোকান বন্ধ করব।হঠাত্ মোবাইলে একটা কল

এল।দেখি বন্ধু শাহীন ফোন করেছে। ভাবলাম,এত রাতে ওর ফোন ,কাহিনী কি?ফোন ধরলাম।ধরেই

একটা দুঃসংবাদ শুনতে হল।ওর চাচা কিছুক্ষন আগে মারা গেছেন।কাল

সকালে তার জানাজা হবে।এখন মসজিদে মসজিদে গিয়ে হুজুরদের

বলতে হবে তারা যেন ফজরের ওয়াক্তে মাইকিং করে দেন।আমি ওর

সাথে যেতে পারব কিনা জানতে চাইল। আমি এককথায় রাজি হলাম।আধ ঘণ্টার

মধ্যে ওর বাসায় হাজির হলাম।তারপর দুজনে একসাথে বের হয়ে বিভিন্ন

মসজিদে যেতে লাগলাম।তখন ৩টা কি ৩’৩০টা বাজে।দুজনে এক

মসজিদ থেকে বের হয়ে আরেকটি মসজিদের

দিকে রওনা হলাম। যে মসজিদটিতে যাচ্ছিলাম

তাতে যেতে হলে মাঝখানে একটি ডোমপাড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

দুজনে ডোমপাড়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।বন্ধুর মন খারাপ

তাই সে কোন কথা বলছিল না।পাড়াটি অত্যন্ত নোংরা।রাস্তার

পাশে কিছুদূর পরপর স্ট্রিট লাইটপোস্ট। কিছুদূর এগোনের পর অদ্ভূত

অনুভূতি হতে লাগল,মনে হল কে যেন আড়াল থেকে আমাদের দেখছে।

শাহীনেরও যে একই অবস্থা হয়েছিল তা পরে জেনেছি।অস্বস্তি কাটাবার

জন্য দুজনে কথা বলতে বলতে এগোতে লাগলাম।

যেতে যেতে রাস্তার একটা মোড় ঘুরবার পর দেখি সামনে ১০-১২বছরের টাক

মাথার একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা একটু অবাক হলাম।এত রাতে এত

ছোট একটা ছেলে বাহিরে কি করছে? আমরা এগিয়ে গেলাম।পিচ্চিটাকে বললাম

এই তোর বাড়ি কই?এত রাতে এখানে কি করস?পিচ্চিটা কিছু

না বলে মাথা নিচু করে হাঁটা ধরল। এরপর

সে যা করল তা এককথায় অবিশ্বাস্য। সে রাস্তার পাশের ড্রেনের দিকে এগিয়ে গেল

এবং আস্তে আস্তে ড্রেনের মধ্যে পুরোপুরি ঢুকে গেল!!! আমরা সাথে সাথে দৌঁড়ে ড্রেনের

কাছে গিয়ে উকি দিলাম।কিন্তু পিচ্চিটার

ছায়াও দেখলাম না।এত তাড়াতাড়ি চম্পট দেয়া কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব না।

তার চেয়েও বড় কথা হল ড্রেনটা এত

সরু যে কোন ১০-১২বছরের ছেলে সেটায় পুরোপুরি ঢুকতে পারবে না।

রাস্তার পাশের স্ট্রীট লাইটের আলোয় ঘটনাটা চাক্ষুষ করলাম।কেমন যেন ধোকা লাগল।যাই

হোক,ব্যাপারটা পাত্তা না দিয়ে চলতে লাগলাম। অদ্ভূত অনুভূতিটাও বহাল রইল।আরেকটু

এগোনের পর কি কারনে যেন একটা লাইটপোস্টের মাথার দিকে নজর

গেল।যা দেখলাম তাতে দম বন্ধ

হয়ে গেল।পোস্টের মাথায় ঝুলছে একটা লাশ,পিচ্চিটার লাশ!!!

এইবার বুঝতে পারলাম কিসের পাল্লায়

পড়েছি।শাহীনও লাশটা যে লক্ষ্য করেছে তাও বুঝলাম তার পরের কথায়।

সে শুধু বলল দোস্ত ,ভাগ।দুজনে দৌঁড় লাগালাম।কতদূর দৌড়াবার পর

থামলাম।

মনে হল বেঁচে গেছি।কিন্তু হঠাত্ করে শাহীনের চিত্কার।ওর

দিকে ঘুরে দেখি সে উপরের দিকে আঙুল

তাক করে আছে।উপরের দিকে তাকাতেই

দেহে কাঁপুনি ধরে গেল।সেই পোস্ট,সেই লাশ!!!চারপাশের পরিবেশও

চেনা মনে হল।একটু আগেই এখান থেকে পালিয়েছিলাম।মাট িতে ধুপ করে কিছু পড়ার শব্দ শুনে ঘুরে দেখি শাহীন মাটিতে পড়ে আছে।

হঠাত্ করে বিদঘুটে হাসির শব্দ শুনে পোস্টের

দিকে তাকিয়ে যা দেখলাম তা আমার কল্পনাতীত।পোস্ট ের মাথায়

কোন লাশ নেই!!!ঐটার নিচে দাঁড়িয়ে অট্টহাসি হাসছে পিচ্চিটা!!! হঠাত্ করে সে হ্যাঁচকা টান

দিয়ে নিজের মাথা ছিঁড়ে ফেলল!!!আলোতে স্পষ্ট দেখলাম চারপাশে রক্ত ছিটকে পড়ল।

কাটা মাথাটি পাগলের মত হাসতে লাগল।এরপর কাটা মাথা হাতে কবন্ধটি আমাদের

দিকে এগোতে লাগল।আমি আর সহ্য করতে পারলাম না।আল্লাহ আল্লাহ

করতে করতে চেতনা হারিয়ে ফেললাম। পরদিন যখন হুঁশ হয়

বুঝতে পারি আমরা একটা মসজিদে আছি। পরবর্তীতে জানতে পারি যে ফজরের

ওয়াক্তে মসজিদে আসার পথে আমাদের পড়ে থাকতে দেখে মুসল্লীরা আমাদের

মসজিদে নিয়ে এসেছে।এটা ছিল সেই মসজিদ যেটার

উদ্দেশ্যে আমরা রওনা হয়েছিলাম। ইমাম সাহেবের কাছে আমরা সব

কথা বললে তিনি বলেন যে ঐটা ছিল খারাপ প্রকৃতির প্রেত যা মানুষের পথ

ভুলিয়ে দিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে ক্ষতি করে থাকে। তিনি আমাদের

রাতে বাইরে থাকতে নিষেধ করলেন।তার কথা আজও মেনে চলি।

লেবেল